April 19, 2026, 11:45 am

সিদ্ধিরগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্র হত্যার দায়ে ৩’শিক্ষক সহ গ্রেফতার ৭

সিদ্ধিরগঞ্জে মাদ্রাসার ছাত্র হত্যার দায়ে কওমি মাদ্রাসার ৩’শিকসহ ৪’ ছাত্র গ্রেফতার। গত বৃহস্পতিবার রাতে থানার রসুলবাগ মাঝিপাড়া রওজাতুল উলম মাদ্রাসা থেকে ধৃতদের গ্রেফতার করা হয়। গতকাল শুক্রবার নিহতের বাবা জামাল হোসেন বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করে। ধৃতদের ৭’দিনের রিমান্ড চেয়ে গতকাল শুক্রবার আদালতে প্রেরণ করা হয়।
পুলিশ জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার রসুলবাগ মাঝিপাড়া রওজাতুল উলম মাদ্রাসায় সাব্বির আবাসিকভাবে হিফজ বিভাগে পড়াশোনা করত। গত ১০’মার্চ সকাল সাড়ে ১০’টার দিকে শিক যুবায়ের নিহতর পিতা জামাল হোসেনের মোবাইলে ফোন দিয়ে জানান, সাব্বি ছাদে ওঠার সিঁড়ি সংলগ্ন ফাঁকা রডের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে নিহতের বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে অন্যান্য ছাত্র ও শিকদের সঙ্গে কথা বলে লাশ বাড়িতে নিয়ে দাফনের প্রস্তিুতি নেয়। লাশের গোসল করানোর সময় ঠোঁটে, কপালে ও মাথার ডানদিকে আঘাতের চিহ্নসহ গালায় রশির দাগ দেখা যায়। তখন সন্দেহ হয় হত্যাকে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। ফলে বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপকে জানালে মাদ্রাসা থেকে অজ্ঞাতনামা হুজুর নিহতের বাবার মোবাইলে কল দিয়া ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশকে না জানানোর জন্য বিভিন্নভাবে বুঝ-পরামর্শ দেয়। ভিকটিমের অভিভাবকরা নিশ্চিত হন এটা হত্যা। মাদ্রাসার শিক বা সহযোগীদের আঘাতে মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসাবে চালানোর জন্য লাশ গামছা দিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে প্রচার করে মাদ্রাসা কর্তৃপ। পরে নিহতের বাবা জামাল হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা-পুলিশকে ঘটনা জানালে রাতে পুলিশ ওই মাদ্রাসার ৩’শিক্ষকসহ ৪’জনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহত সাব্বির আহম্মেদ (১৪ রূপগঞ্জ থানার বরপা এলাকার মো. জামাল হোসেনের ছেলে। ধৃতরা হলো রওজাতুল উলম মাদ্রাসার শিক চাঁদপুর জেলার মতলব দণি থানার মধুপুর এলাকার নূরুল ইসলাম মিয়াজির ছেলে শামীম, ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানার ইমাদপুর এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে মাহমুদুল হাসান, ঢাকার গেন্ডারিয়া থানার শাখারিনগর এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে আবু তালহা, একই মাদ্রাসার ছাত্র, নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার উত্তর লণখোলা এলাকার আবুল কালামের ছেলে আবু বক্কর, ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার কাজা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে শওকত হোসেন সুমন, একই জেলার ফুলপুর থানার ইমাদপুর গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে জুবায়ের আহমেদ ও চাঁদাপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার ভাটিরগাঁও গ্রামের মৃত তমসির মিয়ার ছেলে আাব্দুল আজিজ। ধৃতদের ৭’দিনের রিমান্ড চেয়ে গতকাল শুক্রবার আদালতে প্রেরণ করা হয়।
এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান পিপিএম বার জানান, নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। আমরা আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করেছি।######

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা